বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬

 

বাংলাদেশে ড্রপশিপিং ব্যবসার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ড্রপশিপিং ব্যবসাটি খুব ভালো। যারা ঘরে বসে কম খরচে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করতে চান কিন্তু পণ্য স্টকে রাখা

বা ডেলিভারির ঝামেলায় যেতে চান না তাদের জন্য ড্রপশিপিং বিজনেসটা কার্যকরী হবে। আজকের নিচের এই ব্লক পোস্টে আমরা জানবো বাংলাদেশের ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার  কিছু ধাপসমূহ ঃ

পেইজ সূচিপত্র ঃবাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড 

ড্রপশিপিং কি

ড্রপশিপিং বিজনেসটা হল এমন একটি অনলাইন ব্যবসা পদ্ধতি যেখানে আপনাকে কোন প্রোডাক্ট আগে থেকে স্টকে কিনে রাখতে হবে না। কাস্টমার অর্ডার দিলে আপনি সরাসরি সাপ্লায়ার এর কাছে অর্ডারটি পাঠিয়ে দিবেন।আপনার কাজ হল পণ্য মার্কেটিং করা এবং কাস্টমার নিয়ে আসা। সাপ্লায়ার আপনার কাছ থেকে সেলারের তথ্য নিয়ে প্রোডাক্টটি পৌঁছে দিবে। বিক্রয়মূল্য আর সাপ্লায়ার এর দামের মাঝে যে পার্থক্য থাকবে সেটাই হবে আপনার লাভ।

বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেসের সুবিধা 

ড্রপশিপিং ব্যবসাটি অনেক কম টাকা দিয়ে শুরু করা যায়। অনেকেই ঘরে বসে কাজ করতে চাই ঘরে বসে কাজ করার জন্য ব্যবসাটি ভালো। প্রোডাক্ট স্টকে রাখার ঝামেলা নাই। বাংলাদেশের যে কোন জায়গা থেকে এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও কাজটি পরিচালনা করা যাবে। ক্যাশ অন ডেলিভারি হওয়ার কারণে মানুষের আস্থা বেশি। টাকা লস হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকে না। প্রোডাক্ট সেল হলে আপনার আয় হবে । 

প্রথমে নির্দিষ্ট কিছু প্রোডাক্ট নির্বাচন করুন  

ড্রপশিপিং বিজনেস এর জন্য প্রথমে নির্দিষ্ট কিছু প্রোডাক্ট নির্বাচন করুন। প্রোডাক্ট  নির্বাচন না করে  যদি আপনি একই দোকানে কাপড় মোবাইল কসমেটিকস সব একসাথে বিক্রি করতে চান তবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা  খুব কম। তাই আপনাকে আগে দেখতে হবে বাজারে কোন প্রোডাক্টের চাহিদা বেশি কোনটি ট্রেন্ডিংএ  আছে বা মানুষের দৈনন্দিন চাহিদার মধ্যে কোনটা পড়ছে । তাই সব কিছু জানার পর প্রোডাক্ট নির্বাচন করতে হবে। 

বিশ্বস্ত একজন ড্রপশিপিং সাপ্লায়ার খুঁজুন 

আপনার ব্যবসার জন্য বিশ্বস্ত বা নির্ভরযোগ্য একজন সাপ্লায়ার খুঁজতে হবে কারণ সাপ্লায়ার ভালো না হলে কাস্টমার প্রোডাক্ট ভালো পাবে না। তাই একজন ভাল সাপ্লায়ার খুঁজুন।একাধিক সাপ্লায়ার এর দাম ও সার্ভিস যাচাই করুন। কাস্টোমারকে ভালো প্রোডাক্ট দিলে আপনার ওপর কাস্টমারের আস্থা বাড়বে,রিপিট কাস্টোমার বেসি আসবে। বাংলাদেশে জনপ্রিয় কিছু সাপ্লায়ার প্ল্যাটফর্ম আছে যেমনঃ Shopify, Ali express, Alibaba , ইত্যাদি ।এর মধ্যে  Shopify বেশি ব্যবহার  করা হয় ।

ড্রপশিপিং বিজনেস এর মার্কেটিং কৌশল 

ড্রপশিপিং বিজনেসে সফল হওয়ার জন্য মার্কেটিংয়ের কৌশলটা সবথেকে বেশি জানা প্রয়োজন।  মার্কেটিং ভালোভাবে করতে না পারলে প্রোডাক্ট বেশি সেল করা যাবে না।ফেসবুক পেজ এবং বিভিন্ন প্লাটফর্মে বিজ্ঞাপন চালালে সেল পাওয়া যায়।

কিছু মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম যেমন ইমেইল মার্কেটিং, হোয়াটসঅ্যাপ মার্কেটিং ,টিকটক মার্কেটিং , ফেসবুক মার্কেটিং ,এডস ক্যাম্পেইন ,ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং , এইসব প্ল্যাটফর্মে  আপনার পণ্যটি প্রচার করবেন  এবং প্রোডাক্ট রিলেটেড কনটেন্ট তৈরি করুন । 

ড্রপশিপিং বিজনেসে একটি অনলাইন স্টোর বা ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করুন

প্রথমে আপনাকে একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইটে স্টোর তৈরি করতে হবে।যেখানে কাস্টমার এসে প্রোডাক্টের জন্য অর্ডার দিবে। তাই একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করুন।প্রোডাক্ট এর ছবিগুলো ভালো দিবেন। কারন একটি ড্রপশিপিং ব্যবসার মূল ভিত্তি হলো ভালো মানের প্রফেশনাল ওয়েবসাইট ।ড্রপশিপিং এর জন্য ই-কমার্স ওয়েবসাইট  তৈরির কিছু নিয়মঃ 

  • ডোমেইন হোস্টিং কিনুন 
  • ওয়েবসাইট ডিজাইন করা  
  • প্রোডাক্ট যুক্ত করা 
  • পেমেন্ট সিস্টেম টা ভালোভাবে সেটআপ করা

ড্রপশিপিং বিজনেস থেকে টাকা আয়  

ড্রপশিপিং ব্যবসায় আপনার আয় নির্ভর করে মার্কেটিং দক্ষতা , প্রোডাক্ট নির্বাচন এবং আপনি কিভাবে কাজ করছেন তার ওপর। অনেকে ড্রপশিপিং ব্যবসা করে প্রতি মাসে হাজার টাকা ইনকাম করে আবার কেউ লক্ষাধিক টাকা আয় করে। শুরুতে ধৈর্য সহকারে কাজ করলে অবশ্যই পরবর্তীতে ভালো কিছু করতে পারবেন।

বাংলাদেশে পেমেন্ট গেটওয়ে সেটআপ করুন  

পেমেন্ট সেটআপ সিস্টেম টা সঠিকভাবে করলে কোন সমস্যায় পড়তে হয় না। ব্যবসাটি আপনি যদি বাংলাদেশের ভেতরেই করেন তাহলে ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেমটাই বেশি ভালো এবং বেশি প্রচলিত। এছাড়াও বিকাশ, নগদ, রকেট এর মার্চেন্ট একাউন্ট বা এসএসএল আপনার ই-কমার্স ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত করতে পারেন। আর দেশের বাইরে প্রোডাক্ট সেল করলে  ডুয়েল কারেন্সি কার্ড ব্যবহার করা হয় । দ্রুত লেনদেন  এর জন্য অনলাইন ব্যাংকিং চালু রাখুন।

ড্রপশিপিং ব্যবসায় নতুনদের জন্য সাধারণ কিছু ভুল 

এই ব্যবসায় সফল হতে হলে ধৈর্য করে ধরে কাজ করতে হবে। তবে প্রথমদিকে কিছু ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক। অনেকে সঠিকভাবে নিশ নির্বাচন করতে পারে না বেশি প্রতিযোগিতামূলক প্রোডাক্ট বেছে নেই। ওয়েবসাইট প্রফেশনালি সাজাতে না পারলে। কাস্টমার কেয়ার রেসপন্স করতে দেরি করলে ,খুব তাড়াতাড়ি লাভের আশা করা সব বিষয় ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে ধৈর্য সহকারে কাজ করলে ভালো কিছু আশা করা যায় ।

ড্রপশিপিং ওয়েবসাইটের জন্য এসইও টিপস  

এই ব্যবসায় সফলতা অর্জনের জন্য এবং কাস্টমারের কাছে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে জানানোর জন্য ওয়েবসাইটে এস ই ও করা প্রয়োজন। এস ই ও করার জন্য কার্যকরী কিছু উপায়ঃ 

  • প্রোডাক্ট সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে লেখা
  •  ইউনিক কিছু ছবি দিতে হবে
  •  কিওয়ার্ড রিসার্চ( মানুষ যে কথাগুলো লিখে গুগলে খুঁজবে)
  •  ইমেজ দিতে হবে 
  • ইমেজ অপটিমাইজেশন (প্রতিটি ছবির অল্টার ট্যাগ দিতে হবে)
  • প্রতিটি প্রোডাক্ট এর জন্য টাইটেল ,মেটা ডেসক্রিপশন্হে‌ডিং ট্যাগ দিতে হবে 
  • এগুলোর পাশাপাশি আপনার ওয়েবসাইটে প্রোডাক্ট রিলেটেড  বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ব্লক পোস্ট করবেন 

পরবর্তীতে ব্যবসা বড় করুন 

যখন নিয়মিত আপনার প্রোডাক্ট ভালোভাবে  সেল করবেন তখন নতুন  প্রোডাক্ট যুক্ত করুন। যেমন আপনি যদি বিউটি কেয়ার নিয়ে কাজ করেন তার সাথে হেয়ার কেয়ার যোগ করুন। প্রয়োজনে একাধিক স্টোর তৈরি করুন। টিম তৈরি করুন রিটার্ন কাস্টমার আরও বাড়ান কিছু ডিসকাউন্ট দেয়ার মাধ্যমে। রিভিউ পোস্ট করুন।

শেষ কথা বা লেখকের মন্তব্য 

বাংলাদেশে ড্রপশিপিং বিজনেস হলো সবচেয়ে কম খরচে ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করার একটি প্ল্যাটফর্ম। সঠিক প্রোডাক্ট বিশ্বস্ত সরবরাহকারী আর ভালো মার্কেটিং থাকলে অল্প সময়ে লাভজনক ব্যবসা তৈরি করা সম্ভব। তাই আজই পরিকল্পনা শুরু করুন আপনার জন্য  এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

 



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ঘুরে দাঁড়াও নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪